হ্যাকিং কিভাবে শিখবো? হ্যাকিং শেখার উপায়
হ্যাকিং কিভাবে শিখবো? হ্যাকিং শেখার উপায়।
হ্যাকিং শব্দটা হয়ত শুনলে আমরা অনেকেই গাবরে যায়,, মনে মনে চিন্তা আসে আমাদের কোনো কিছু হ্যাক হয়ে যাবে কিনা বা হ্যাঁক হয়েছে কিনা, এমন টা হওয়ার এই কথা কারন সচরাচর আমরা অনেক ভাবেই হ্যাকিং এর শিকার হই। এবং অনেকেই হয়েছি, প্রতারণা করছে। তার সাথে আমরা অনেক মুভি সিনেমার সিন দেখেও সেগুলো সম্পর্কে অবগত আছি। আজ আমি আপনাদের কে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিবো যা পড়ে আপনি হয়তো সহজেই বুঝে যেতে পারবেন আপনি হ্যাকার হতে পারবেন কি না। বা কোন ধরনের হ্যাকার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। চলুন তার আগে জেনে নেই হ্যাকিং কি।
হ্যাকিং মানেই যে খারাপ কিছু তা কিন্তু না। হ্যাকিং করে চাইলে আপনি প্রতিমাসে ভাল একটা এমাউন্টও ও আয় করতে পারবেন। হ্যাকিং আসলে তিন প্রকার হয়ে থাকে। আর হ্যাকিং আমরা মুভি সিনেমায় যেমন দেখি বাস্তবতা আসলে একদম ভিন্ন, হ্যাকিং একটা লং টাইম প্রসেস, এইটা শিখার জন্য আপনাকে অনেক সময় ব্যয় করতে হবে সেই সাথে প্রচুর পরিমানে প্রেক্টিস করতে হবে। তবে গাইড লাইন পেলে আপনিও চাইলে হ্যাকিং খুব সহজেই শিখে যেতে পারবেন। চলুন তাহলে জেনে নেই হ্যাকিং এর ধাপ প্রসেস গুলো
হ্যাকিং কিভাবে শিখবো?
হ্যাকিং চাইলেই সবাই শিখতে পারে না। হ্যাকিং একটা ভয় ভিতিকর শব্দ। কোনো একটা পোস্ট পড়ে বা কন্টেন্ট পড়ে হ্যাকার হওয়া সম্ভব না হ্যাকিং এর বিভিন্ন প্রকারভেত রয়েছে। এটি থাকার কারনে কোনো একটা নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর শিখলেই হ্যাকার হওয়া যায় না এটা করা বোকামি। হ্যাকিং করতে হলে আপনাকে একাধারে অপারেটিং সিস্টেম, প্রোগামিং লেগুয়েজ, নেটওয়ার্ক সহ অনেক বিষয়ের ধারণা থাকতে হবে৷ চলু হ্যাকিং শিখিতে হলে কি কি জানতে হবে জেনে নেই।
অপারেটিং সিস্টেম
অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে আপনার ভালো ধারণা থাকতে হবে। কারন অপারেটিং সিস্টেম আমরা জানি কাজ করে একটি ডিভাইসের হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর সমন্বয় আউটপুট দিতে থাকে। হ্যাকিং যেহেতু সিস্টেম নিয়ে কাজ করে সেহেতু এই সম্পর্কে ধারনা থাকতেই হবে৷ । আর অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে আপনি যখন ভাল ধারনা পেয়ে যাবেন তখন হ্যাকিং শেখার উপায় অনেকটা ইজি হয়ে যাবে৷ অপারেটিং সিস্টেম কিভাবে কাজ করে আমরা যখন পুরো ধারণা টা পেয়ে যাবো তখন আমাদের জন্য আরও সহজ হয়ে যাবে। আমরা সহজেই বুঝতে পারবো কিভাবে সিস্টেম কাজ করে না করে৷ এইগুলোও বুঝতে পারলে আমাদের জন্য আরও অনেক বেশি সহজ হয়ে যাবে কিভাবে কোনো সিস্টেমের ভিতরে প্রবেশ করতে হবে। এবং কখন করতে হবে। ।
লিনাক্স
লিনাক্স এমন একটি সিস্টেম যেখানে আপনি নিজের মত করে কাস্টমাইজ করে কাজ করতে পারবেন৷ হ্যাকিং বলতে গেলে প্রথমত যে সমস্যায় পরতে হয় তা হলো কোনো অপারেটিং সিস্টেম ইউজ করবো তা নিয়ে এই সমস্যার সমাধান একমাত্র লিনাক্সের গুরুত্বপূর্ণ অপরিসীম। আপনার লিনাক্স সম্পর্কে ভালো ধারনা নিবেন এর মধ্য আরো রয়েছে কালী লিনাক্স যার মধ্য প্রাই ১৫০ টার মতো হ্যাকিং টুল ইনিস্টল করা থাকে। এই টুল ব্যবহার করে যেমন করে হ্যাকিং ঠেকানো যায় তেমন হ্যাকিং করাও যায়। এ গুলো তৈরি হয়েছে সিকিউরিটি স্পেশালিস্টদের জন্য। তাই এই সম্পর্কে ও আরো ভালো দারনা নিয়ে শুরু করতে হবে৷
সার্ভার
সার্ভার সম্পর্কে জ্ঞান থাকা হ্যাকিং এর জন্য খুবি গুরুত্বপূর্ণ, কারন আপনি যখন কাজ শুরু করবেন তখন সার্ভার সম্পর্কে বা ওয়েবসাইটে বা আপ্লিকেশন হ্যাকিং এ সাহায্য করবে৷ আপনি যখন সার্ভার নিয়ে কাজ শুরু করবেন তখন এর সাইড নলেজ বা এডবান্স সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা নিতে পারবেন।আপনি যখন কোনো সাইটে হ্যাক করবেন তখন অই সাইট নিয়ে ভালো ধারণা রাখতে হবে সেই থাকে থাকতেও হবে, কেনো না আপনি যদি সেই সাইট সম্পর্কে ভাল জ্ঞান না রাখেন তাহলে সেই সাইটের দুর্ভলতাও আপনি খুজে পাবেন না। এবং এর ভিতরে প্রবেশ ও করতে পারবেন না। আপনি যখন একটা সাইট হ্যাক করবেন তখন সবার আগে তার দুর্বলতা কে লক্ষ্য রাখতে হবে সেই দিকেও খেয়াল দিতে হবে৷
নেটওয়ার্কিং বা ইন্টারনেট। ।
হ্যাকিং করতে হলে আপনাকে এই সম্পর্কে ও আরো ভালো ধারণা রাখতে হবে সহজ কথা বলতে যেই যায়গায় নেটওয়ার্ক থাকবে না সেই যায়গায় আপনি যেতেও পারবেন না। কারন একটা কথা আছে যেই যায়গায় ইন্টারনেট আছে সেই যায়গায় হ্যাকিং আছে। তাহলে একবার ভেবে দেখুন ইন্টারনেট তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়াও আরো অনেক কাজে গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে ইন্টারনেট। কারন ইন্টারনেট ছাড়া আপনি যে সাইটে কাজ করবেন সেই সাইটে ভাইরাস ইঞ্জেকক্ট করতে হলে আপনাকে ইন্টারনেট সম্পর্কে আরও অনেক বেশি ধারণা পেতে হবে৷ ।
প্রোগ্রামিং লেগুয়েজ
হ্যাকিং এর গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় হলো প্রোগ্রামিং লেংগুয়েজ। হ্যাকিং করতে হলে আপনাকে শতভাগ প্রোগ্রামিং লেংগুয়েজ জানা থাকতে হবে। আপনি যদি এই সম্পর্কে না জানেন আসলে আমরা যে ভাবে আমাদের ভাষা বুঝতে পারি প্রোগ্রাম ও তেমন এই প্রোগ্রামিং ভাষা বুঝতে পাড়ে। তাই আপনাকে প্রোগ্রাম এর লেংংগুয়েজ সম্পর্কে জানা থাকতে হবে। আপনি যদি কোনো সাইট হ্যাকিং করার জন্য চেষ্টা করেন তাহলে সেই সাইট কি বা টার্গেট দিয়ে তৈরি সেই সম্পর্কে ও ধারণা থাকতে হবে । আপনার আয়ত্তে যত বেশি প্রোগ্রামিং ভাষা জানা থাকবে আপনি হ্যাকিং জগতে তত বেশি এগিয়ে থাকবেন। তাই এইটাও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে হ্যাকিং এর ক্ষেত্রে।
ডাটাবেস।
এস কিউ এল ইঞ্জেকশন অনেক পরিচিত একটা মেথড, যারা নতুন ভাবে হ্যাকিং করা শিখে বা শিখছে তাদের কে হয়তো এই সম্পর্কে বলতে হবে না। হ্যাকিং জগতে যারাই আছে আমার মনে হয় এই মেথড কারো অপরিচিত না৷ কারন অনেকেই এই মেথড দিয়েই হ্যাকিং করা শুরু করে। তাই আমি বলবো হ্যাকিং শুরু করার আগে এই মেথড সম্পর্কেও আপনাকে অবগত থাকতে হবে এবং আরও অনেক বেশি এই মেথড সম্পর্কে ধারনা নিতে হবে৷
হার্ডওয়্যার
রাসভেরি পাই নামক ভাইরাসের কথা আমরা অনেকেই শুনেছি যদি না শুনে থাকি তাহলে এই সম্পর্কে ও আমরা ধারণা নিয়ে তার পড় হ্যাকিং শুরু করবো। কারন এই ভাইরান একটি মিনি কম্পিউটার বাদে পুরনাজ্ঞ কম্পিউটার এর মধ্য আপনি বিভিন্ন হ্যাকিং টুল ব্যবহার করে বা ইনিস্টল করে হ্যাকিং করতে পারবেন। এমন অনেক হ্যাকিং টুল আছে যা দিয়ে খুব সহজেই হ্যাকিং করা বা কোনো সার্ভার বা সাইটের উপর অ্যাটাক করতে পারবেন। তা ছাড়া হার্ডওয়্যার কাজ আপনাকে হ্যাকিং আরও অনেক সহজ করে দিবে অপারেটিং সিস্টেম এর মধ্য যে হার্ডওয়্যার ড্রাইভার ইন্সস্টিল করা থাকে তা দিয়ে আরও সহজেইহ্যাকিং এর কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন। ।
সিকিউরিটি
হ্যাকিং করতে হলে আপনাকে সিকিউরিটি সম্পর্কে ও ভালো জ্ঞান বা ধারণা রাখতে হবে৷ কেনো না আপনি যখন এই হ্যাকিং করতে যাবেন তখন এই আপনাই এই সিকিউরিটির সমস্যা পরবেন। সিকিউরিটির জন্য হয়তো বা আপনি অনেক সময় সাইটে প্রবেশ এই করতে পারবেন না আপনাকে বাদা প্রদান করা হবে। সেই ক্ষেত্রে আপনি যদি বাইপাসে কোনো রকমে চোখে দুলো দিয়ে ডুকে যেতে পাড়েন তাহলে আপনার জন্য হ্যাকিং সহজ হয়ে যাবে। তাই সিকিউরিটি সম্পর্কেও আপনাকে ভালো জ্ঞান বা ধারণা নিতে হবে এবং সেই সম্পর্কে জানা থাকতে হবে৷
অ্যানোনিমাস থাকা
অ্যানোনিমাস মানে নিজেকে লুকিয়ে রাখা,, আপনি যদি কোনো ভিপিএন ইউজ করে নিজের আইপি হাইড রাখতে চান তবে তা শুধু অফলাইনেই সম্ভব ফ্রি ভিপিএন দিয়ে তো আরও সম্ভব নয়। আপনাকে এমন একটা প্রোগ্রাম সম্পর্কে ধারনা রাখতে হবে যেনো কোনো মানুষ আপনাকে যখন ট্রাস করবে বা ট্রাক করবে তখন আপনার প্লেজ যেনো একেকসময় একেক যায়গায় দেখা যায়৷ সে ক্ষেত্রে হ্যাকার রা বেশির ভাগ ইউজ করে স্পুফিং, স্পুফিং হলো এমন একটা পদ্ধতি যা ব্যবহার করলে একই সময়ে ভিকটিমের প্লেস নানা দেশে অথবা নানান যায়গায় দেখাবে৷ এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে আপনার রুট খুজে পাওয়া অনেক কঠিন অথবা অনেক অসম্ভব হয়ে যাবে প্রায়।
হ্যাকিং শেখার উপায়
হ্যাকিং কিভাবে করতে হবে সেই সম্পর্কে আমরা জেনে নিলান কিন্তু সেখার উপায় গুলো এখনো শিখলাম না। চলুন হ্যাকিং কিভাবে শিখবো কোথায় শিখবো সেগুলো ও জানি।
অফলাইন কোর্স
আপনি চাইলে কোনো একটা কোর্সে ভর্তি হয়ে সহজেই হ্যাকার বা হ্যাকিং শিখতে পারেন। অফলাইনে শিখলে আপনি আরও তারাতাড়ি শিখে যেতে পারবেন কারন গাইড লাইন ভালো পাবেন৷ ।
অনলাইন কোর্স
অনলাইনে যে কোনো প্লাটফর্ম এর মধ্য আপনি চাইলে হ্যাকিং শিখিতে পারবেন। নির্দিষ্ট টাকা বা ফি জমা দিয়ে কোর্স কিনে ও নিতে পারবেন। অনলাইনে আপনাকে যে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে সেই সময়ে আপনাকে উপস্থিত থাকতে হবে৷ সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি হ্যাকিং তেমন ভাবে শিখা যাবে না
ট্রেনিং সেন্টার
আপনি চাইলে হ্যাকিং শেখার জন্য একটা ট্রেনিং সেন্টারেও হ্যাকিং শিখিতে পারেন। সেইখানে আপনিও খুব দ্রুত এবং নিয়মিত প্রেক্টিস এর সাথে সহজেই হ্যাকিং শিখে যেতে পারবেন। সেই সাথে তাদের পরামর্শ এবং গাইড লাইন গুলো আরও নিখুত ভাবে পেয়ে যাবেন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন